আকাশ কুসুম চলচ্চিত্র

আকাশ কুসুম চলচ্চিত্র

আকাশ কুসুম চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- চলচ্চিত্রটি পূর্বাচল ফিল্ম প্রোডিউসার্স প্রযোজনায় মৃণাল সেন পরিচালিত। চলচ্চিত্রটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়।

অজয় স্বপ্ন দেখে একদিন ব্যবসা করে অঢেল টাকার মালিক হবে। তার বন্ধু সত্যেন ধনীর সন্তান, তিনি  নিজের বাড়ি, গাড়ি, টেলিফোন ইত্যাদি অজয়কে ব্যবহার করতে দেয় তার সুবিধার কথা ভেবে। এক বিয়েবাড়িতে অজয়ের সাথে পরিচয় হয় ধনীর সন্তান মনিকার। অজয় সত্যেনের বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি নিজের বলে মনিকার কাছে জানায়, যদিও একটা মিথ্যা ঢাকতে গিয়ে আরও কয়েকটি মিথ্যে কথার ভিড়ে ক্রমশ নিজেকে জড়িয়ে ফেলে।  পরবর্তীতে মনিকা বিষয়টি বুঝতে পারে এবং নিঃশব্দে অজয়কে বিদায় জানায়।

 

 

আকাশ কুসুম চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা – পূর্বাচল ফিল্ম প্রোডিউসার্স।
  • কাহিনি – আশীয় বর্মণ।
  • চিত্রনাট্য — মৃণাল সেন, আশীয় বর্মণ।
  • পরিচালনা — মৃণাল সেন।
  • চিত্রগ্রহণ – শৈলজা চট্টোপাধ্যায়।
  • শিল্প নির্দেশনা- বংশী চন্দ্রগুপ্ত।
  • সংগীত পরিচালনা – সুধীন দাশগুপ্ত।
  • শব্দগ্রহণ — নৃপেন পাল, শ্যামসুন্দর ঘোষ।
  • সম্পাদনা— গঙ্গাধর নস্কর।

আকাশ কুসুম চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়, অপর্ণা সেন, শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়, জ্ঞানেশ মুখোপাধ্যায়, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায়, শোভা সেন, প্রফুল্লবালা দেবী, সতী দেবী, ফাল্গুনী মজুমদার, সমর নাগ, বঙ্কিম ঘোষ, রসরাজ চক্রবর্তী, শোভেন চট্টোপাধ্যায়, শিবরাম রানা, প্রবীর ভট্টাচার্য, কল্যাণ দাশগুপ্ত, শৈলেশ মুখোপাধ্যায়।

 

Google News আকাশ কুসুম চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

আকাশ কুসুম চলচ্চিত্রের কাহিনি—

ছবির কেন্দ্রে আছে অজয় (সৌমিত্র)। সে স্বপ্ন দেখে একদিন ব্যবসা করে প্রতিষ্ঠিত বাড়ি, গাড়ি, টেলিফোন, ফ্রীজ ইত্যাদির সাথে অঢেল টাকার মালিক হবে। অজয় তার মাকেও জানায় সে বেশিদিন এই অবস্থায় পড়ে থাকবে না।

তার বন্ধু সত্যেন (শুভেন্দু) ধনীর সন্তান, নিজেও বড় চাকরি করে, অজয়ের স্বপ্নের উপর সত্যেনের আস্থা না থাকলেও নিজের বাড়ি, গাড়ি, টেলিফোন ইত্যাদি অজয়কে ব্যবহার করতে দেয় তার সুবিধার কথা ভেবে।

এক বিয়েবাড়িতে অজয়ের সাথে পরিচয় হয় ধনীর সন্তান মনিকার (অপর্ণা)। অজয় মনিকার কাছে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসাবে পরিচয় দেয়। দুজনের পরিচয় ঘনিষ্ঠতায় পরিণত হয়। মনিকা তার বাবা (হারাধন) আর মা-র (শোভা) সাথে অজয়ের পরিচয় করিয়ে দেয়, অজয় সত্যেনের বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি নিজের বলে মনিকার কাছে জানায়, যদিও একটা মিথ্যা ঢাকতে গিয়ে আরও কয়েকটি মিথ্যে কথার ভিড়ে ক্রমশ নিজেকে জড়িয়ে ফেলে। সত্যেন অজয়ের ভবিষ্যৎ ভেবে আতঙ্কিত হয়, সে অজয়কে অনুরোধ করে মনিকাকে সত্যিটা জানানোর জন্য, অজয় কর্ণপাত করে না।

শেষ পর্যন্ত দালাল ফণীবাবুর (জ্ঞানেশ) মারফত কেনা পুরোনো যন্ত্রগুলি সারিয়ে আবার বিক্রি করার এবং তার থেকে প্রভূত উপার্জনের স্বপ্ন মরীচিকায় পরিণত হয়। মনিকার বাবাও বুঝতে পারেন মেয়ে প্রতারিত হয়েছে, মনিকাও বিষয়টি বুঝতে পারে, মনিকার বাবা অজয়কে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেন, মনিকা নিঃশব্দে অজয়কে বিদায় জানায়।

ছবিটি তৎকালীন পত্র পত্রিকায় ভালোভাবে সমালোচিত হলেও The Statesman পত্রিকায় ছবিটির কাহিনিকার আশীয় বর্মণের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘ পত্রযুদ্ধ এবং বিতর্ক শুরু হয়, এই বিতর্কে আশীষ বর্মণ, মৃণাল সেন ছাড়াও সত্যজিৎ রায়, ধ্রুব গুপ্ত ইত্যাদি অংশগ্রহণ করেছিলেন, এই বিতর্ক কয়েক মাস যাবৎ চলেছিল, শেষ পর্যন্ত The Statesman কর্তৃপক্ষ চিঠিছাপা বন্ধ করতে বাধ্য হন।

 

 

পুরস্কার—

১৯৬৫ সালে বাংলা ভাষায় নির্মিত শ্রেষ্ঠ ছবি হিসাবে ভারতের রাষ্ট্রপতির রৌপ্য পদক লাভ করে।

প্রকাশনা –

ছবির চিত্রনাট্য দিশা সাহিত্য পত্রিকায় ২০০৮ সালে প্রকাশিত হয়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    মন্তব্য করুন

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।