বয়স বৈষম্যের বিরুদ্ধে ইশা কোপিকর আত্মবিশ্বাসে নারীর চিরন্তন সৌন্দর্য featured

বয়স বৈষম্যের বিরুদ্ধে ইশা কোপিকর: আত্মবিশ্বাসে নারীর চিরন্তন সৌন্দর্য

বলিউড তথা বৃহত্তর বিনোদন জগতে অভিনেত্রীদের বয়স নিয়ে ছুঁতমার্গ এবং পুরুষতান্ত্রিক দ্বৈত নীতি, অর্থাৎ এজিসম, কোনো নতুন ঘটনা নয়। এই বিতর্কিত ও নেতিবাচক মানসিকতার বিরুদ্ধে এবার গর্জে উঠেছেন ‘খাল্লাস গার্ল’ খ্যাত অভিনেত্রী ইশা কোপিকর। সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একগুচ্ছ বিস্ফোরক ভিডিও রিল এবং অনুপ্রেরণামূলক বার্তার মাধ্যমে তিনি নারীর আত্মসম্মান, লড়াই এবং চিরন্তন সৌন্দর্যের এক নতুন সংজ্ঞা তুলে ধরেছেন, যা নেটপাড়া জুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইশার এই বলিষ্ঠ অবস্থান কেবল ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে বয়স্ক নারীদের প্রতি প্রচলিত ভুল ধারণাকে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।

ইশা কোপিকর তার স্পষ্টভাষায় বলেছেন যে, সমাজ যেভাবে একজন নারীর বয়সকে ‘মেয়াদ ফুরিয়ে যাওয়া’ পণ্যের মতো দেখে, তা অত্যন্ত লজ্জাজনক এবং অসম্মানজনক। তার জোরালো বার্তা, ‘বয়সকে অপমান করবেন না।’ তিনি তার ইনস্টাগ্রাম ভিডিওতে সমাজ এবং চলচ্চিত্র জগতের এই দ্বৈত নীতির তীব্র সমালোচনা করেছেন। প্রতিটি মানুষের বিবেককে নাড়া দিয়ে তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “যদি প্রতিটি নারী বেঁচে থাকার আশীর্বাদ পান, তবে তাঁর বয়স বাড়বে এটাই স্বাভাবিক। আপনার মা, আপনার স্ত্রী, আপনার বোন, আপনার মেয়ে এবং একদিন আপনি নিজেও— সবাই বুড়ো হবেন। তাই বয়স বেড়ে যাওয়াটাকে একটা অপমান বা কটাক্ষের হাতিয়ার বানাবেন না।”

অভিনেত্রীর মতে, একজন পরিণত নারীর মুখের কুঁচকে যাওয়া চামড়া বা বলিরেখা কেবল তাঁর বয়সকে নির্দেশ করে না, বরং তাঁর জীবনের অজস্র সংগ্রাম, গভীর ক্ষত এবং সেগুলি অতিক্রম করে আসার অদম্য গল্পকে তুলে ধরে। তাই তিনি সমাজের উদ্দেশ্যে পরামর্শ দিয়েছেন, “নারীদের বয়স কত তা না দেখে তাঁদের জীবনের বিশাল সফরটা দেখুন। তাঁদের চামড়ার বাহ্যিক উজ্জ্বলতা না মেপে তাঁদের ভেতরের অপ্রতিরোধ্য মানসিক শক্তিকে উপলব্ধি করুন।”

নিজের ইনস্টাগ্রাম ভিডিওর ক্যাপশনে ইশা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বার্তা শেয়ার করেছেন: “মর্যাদার কোনো শেষ তারিখ হয় না, আর আত্মবিশ্বাসের কোনো বয়স থাকে না।” এই কথাগুলি বিশ্বজুড়ে প্রচলিত সৌন্দর্যের সংকীর্ণ সংজ্ঞাকে চ্যালেঞ্জ করে। দীর্ঘকাল ধরে সৌন্দর্যকে কেবল তারুণ্যের ফ্রেমে বেঁধে রাখার যে প্রবণতা, তার তীব্র বিরোধিতা করে ইশা লিখেছেন, প্রকৃত সৌন্দর্য বোধহয় কখনই বয়সের ওপর নির্ভর করে না। সময়ের সাথে সাথে একজন নারীর আত্মবিশ্বাস দুর্বল হয়ে যায় না, বরং তা আরও শক্তিশালী ও গভীর হয়, যা তাঁকে জীবনের পথে আরও দৃঢ় করে তোলে।

বলিউডে পুরুষ অভিনেতাদের ক্ষেত্রে বয়স প্রায়শই তাঁদের পেশাদারিত্ব বা চরিত্রের গভীরতা বাড়ায় বলে মনে করা হয়, সেখানে নারী অভিনেতাদের ক্ষেত্রে বয়সের রেখা প্রায়শই তাঁদের সুযোগ সীমিত করে দেয়। এটি একটি দুর্ভাগ্যজনক বাস্তবতা যেখানে অভিনেত্রীদের ‘তারুণ্য’ একরকম ‘পণ্য’ হিসেবে বিবেচিত হয়। ইশা কোপিকরের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল, যখন এই বৈষম্য নিয়ে গণমাধ্যমে আলোচনা বেড়েই চলেছে। তিনি কেবল নিজের কথাই বলছেন না, বরং চলচ্চিত্র জগতের আরও অনেক অভিনেত্রীর মনের কথাই তুলে ধরছেন, যারা এই ধরনের মানসিকতার শিকার হন।

ইশা কোপিকরকে সর্বশেষ ২০২৪ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত তামিল সাইন্স-ফিকশন ছবি ‘আয়ালান’ (Ayalaan)-এ শিবকার্তিকেয়নের সাথে ‘এলিজা’ চরিত্রে অভিনয় করতে দেখা গিয়েছিল। তবে হিন্দি সিনেমার দর্শকেরা তাঁকে আজও বিশেষভাবে মনে রেখেছেন ২০০৬ সালের ব্লকবাস্টার ছবি ‘ডন’ (Don: The Chase Begins Again)-এর সাহসী পুলিশ অফিসার ‘অনিতা’ চরিত্রে, যেখানে তিনি শাহরুখ খান ও প্রিয়াঙ্কা চোপড়ার মতো তারকাদের সাথে পর্দা ভাগ করে নিয়েছিলেন। ফারহান আখতার পরিচালিত সেই কাল্ট ছবির সিক্যুয়েল ‘ডন ২’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১১ সালে।

এখানে প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ করা যায়, কিছুদিন আগেই ‘ডন ৩’ ছবিটিকে ঘিরে বি-টাউনে এক মস্ত বড় বিতর্ক দানা বেঁধেছিল। রণবীর সিংকে এই ছবির নতুন ‘ডন’ হিসেবে কাস্ট করা হলেও, কয়েক মাস আগে তিনি এই প্রজেক্ট থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন। যার ফলে বিনোদন মহলে চরম জল্পনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। এই ধরনের উত্থান-পতনের মাঝেও, ইশা কোপিকর যেভাবে নারীদের অধিকার ও সমতার পক্ষে নিজের সুদৃঢ় অবস্থান বজায় রাখলেন, তা এক কথায় অনবদ্য এবং অনুপ্রেরণামূলক।