প্রসেনিয়াম পত্রিকা, নাট্যপত্র - আশিস গোস্বামী

প্রসেনিয়াম পত্রিকা, নাট্যপত্র – আশিস গোস্বামী

প্রসেনিয়াম পত্রিকা, নাট্যপত্র নিয়ে আশিস গোস্বামী লিখেছেন : গণনাট্য সংঘের আদর্শগত বিরোধিতা থেকেই সংযুক্ত গণশিল্পী পরিষদ গঠিত হয়। উৎপল দত্ত, নির্মল ঘোষ প্রমুখদের নেতৃত্বেই এই সংস্থার জন্ম। আদর্শগত পথ চলার ভিন্নতা সত্ত্বেও নিজেদের গণনাট্যের সহযোগী হিসেবেই চিহ্নিত করেছিলেন। ফলে নাট্য সমালোচনার বিষয়টি গণনাট্যের দৃষ্টিজাত। তবে খুব বেশি গুরুত্ব পেত না নাট্য সমালোচনা বিভাগটি। আদর্শগত লড়াইয়ে নিজেদের মতামত, প্রবন্ধ বা ছোটো নাটকের প্রতি যে-গুরুত্ব উপলব্ধ হয়, তুলনায় সমালোচনার ক্ষেত্রটি বেশ গতানুগতিক।

দু-একটি উল্লেখযোগ্য প্রযোজনা ছাড়া অন্যগুলি খুবই অনুল্লেখিত আমাদের কাছে। ‘কল্লোল’ই সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য সমালোচনা মনে হয়। প্রসেনিয়াম পত্রিকার বিশেষ সংখ্যায় ১৩৭৯-তে জিতেন মিত্র এই প্রযোজনার সমালোচনায় লেখেন—

“মিনার্ভা থিয়েটারে নাট্যাভিনয়ের শুরু থেকেই লিট্ল থিয়েটার গ্রুপ পেশাদারী নাট্যমঞ্চে এক দীপ্ত সাহস এবং বিপুল কর্মোদ্যমের পরিচয় দিয়েছে। কল্লোল সেই অসাধারণ সাহসের দীপ্ততম প্রকাশ।…

নাটকটি প্রতীকী নয় এবং যেহেতু বিপ্লব এ পৃথিবীর মানব সমাজেরই হিতার্থে এ নাটকেও ব্যক্তিগুলির আনন্দ-বেদনা, বিষাদ-যন্ত্রণা আছে, সমস্যা আছে, সমস্যা সমাধানের চেষ্টাও আছে।

চরিত্র সৃষ্টি কতটা সার্থক হয়েছে, চরিত্রগুলির ক্রমবিকাশ এবং পরিণতি আছে কি না তা নাটকের দর্শনের পর একেবারেই গৌণ মনে হয়। সমগ্র নাটকটি এক সংগ্রামী চেতনায় অনুসূতে এবং তা দর্শক চেতনাকে এমনভাবে উদ্বুদ্ধ করে, দর্শকের অনুভূতিকে এমন তীব্রভাবে আলোড়িত করে, নাটকে বলিষ্ঠ ভাবনার সঙ্গে দর্শককে এমনভাবে একাত্ম করে তোলে যে সমস্ত কেতাবী শিক্ষাকে তা অভিভূত করে ফেলে।

প্রচার ও শিল্পের যে সূক্ষ্ম সীমারেখা আছে, নাট্যকারের অসাধারণ সংযম তাকে কোথাও অতিক্রম করেনি।…”

ওই একই সংখ্যায় এই পত্রিকা যে রাজনৈতিক থিয়েটারের পথকেই আদর্শ মেনে, তারই প্রচারে নিবিষ্ট থাকতে চায় তা সম্পাদকীয়’ প্রতিবেদনেই জানিয়েছেন,

“আমরা দেখলাম নাট্য আন্দোলনের শীর্ষ স্থান দখল করেছে ‘ব্যাপিকা বিদায়’; ‘বাবু’; ‘নাট্যকারের সন্ধানে ছ’টি চরিত্র’ প্রভৃতি গুটিকতক অসৎ নাটক, অপরদিকে এককালের নাট্যকলায় যুগান্ত সৃষ্টিকারী মহাপ্রতিভাধর দল মেতে উঠল অন্ধকারের নাটক (নিজেদের বিজ্ঞাপন অনুযায়ী) নিয়ে সাধারণ দর্শক হল বিভ্রান্ত, আন্দোলনের প্রকৃত তাৎপর্য তাঁরা বুঝতে পারল না।

…আজও যদিও সংঘবদ্ধভাবে গণনাট্যের আদর্শকে তুলে ধরা না যায় তবে সুবিধাবাদী চক্রান্তকে কাবু করা যাবে না। আন্দোলনের মুখোশধারী প্রগতি বিরোধী স্রোতকে বন্ধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।”

এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ‘কল্লোল’কে যে প্রশংসা করেছেন ‘বাবু’ প্রযোজনায় তা করা হয়নি। ‘একটি ব্যর্থ প্রয়োগ’ এই শিরোনামে দ্বিতীয় বর্ষ তৃতীয় সংখ্যা, কার্তিক ১৩৭১ এ সমালোচক লিখেছেন—

“…বক্তব্য বিষয়ের দিক থেকে বিচার করতে গেলে দেখা যাবে যে ‘বাবু’র বক্তব্য যে বিশেষ সামাজিক পরিবেশ উদ্ভুত তা আজ অনুপস্থিত। বর্তমানে আমাদের দেশে এর কোন সমস্যাই বিদ্যমান নয়। কাজেই যে ধরনের সামাজিক সমস্যা আজ আমাদের কাছে অপরিচিত তা বর্তমানে দর্শকদের মনে শুধুমাত্র বক্তব্যের বলিষ্ঠতার জন্য গভীরভাবে রেখাপাত করতে সক্ষম হয় না, যদি না তার শৈল্পিক আবেদন আমাদের মনকে নাড়া দেয়।

শিল্পের বিচারে অমৃতলালের প্রতি যথোপযুক্ত শ্রদ্ধাবান হয়েও একথা বলতে হয় যে, ‘বাবু’ রসোত্তীর্ণ হতে পারেনি।”

গণনাট্য সংঘের দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই ‘সত্নাট্য’ ‘নবনাট্য’ অভিধাকে যেমন কটূক্তি করা হয়েছে, সেই সঙ্গে ওই লেবেলধারী নাট্যচর্চায় পিরানদেল্লো, আর্থার মিলারের নাটকের বঙ্গীকরণ ও তার মঞ্চায়নকেও স্বাভাবিক ভাবেই মেনে নিতে পারেননি প্রসেনিয়ামের নাট্য সমালোচক। তাই চতুর্মুখ নাট্যদলের আর্থার মিলারের Death of a Salesman নাটক অবলম্বনে ‘জনৈকের মৃত্যু’ প্রযোজনা সম্পর্কে সমালোচক দ্বিতীয় বর্ষ অষ্টম সংখ্যা, চৈত্র ১৩৭১-এ লেখেন—

“মনে হবে না এ দেশের সামাজিক পটভূমিকায় মার্কিনী নাটকের কোনো ঘটনা সংস্থান রয়েছে।… ‘জনৈকের মৃত্যু’তে অভারতীয় সুরের প্রচ্ছন্ন প্রকাশ। মনে হয় মিলার এর Death of a Salesman-এর বঙ্গানুবাদ প্রযোজিত হচ্ছে মঞ্চে।

 

প্রসেনিয়াম পত্রিকা, নাট্যপত্র - আশিস গোস্বামী

 

… Death of a Salesman-এর পিতা একজন মার্কিনী পিতা, পেটের অন্ন সেখানে যত বড় সমস্যা তার চেয়েও অনেক বড় সমস্যা রেফ্রিজারেটর আর গাড়ীর সমস্যা। আমাদের দেশের পিতার ন্যূনতম প্রত্যাশার সঙ্গে যেখানে জড়িত জীবন ধারণের প্রশ্ন মার্কিনী পিতার প্রত্যাশার সঙ্গে সেখানে জড়িত জীবনকে অধিকতর স্বচ্ছলভাবে চালানোর প্রশ্ন। একজন আত্মীক শক্তিতে মৃত মার্কিনীর প্রলাপ বাংলার মঞ্চে, বাংলার পরিবেশে ও বাঙ্গালীর বেশে খাপছাড়া আর কিছু নয়।

তাই মিলারের নাটক যতই ক্লাসিক (1) হোক না কেন, আমাদের প্রতি এ এক বিদ্রূপ। এ বিদ্রুপ আরো ঘনীভূত নাটকটির ঘনিষ্ঠ প্রযোজনায়।”

এই ধরনের যুগান্তকারী নাটকগুলির বিরূপ সমালোচনা করা হচ্ছিল কেবলমাত্র দৃষ্টিভঙ্গির তফাতের জন্যই। বর্তমানে আমরা মানতে রাজি নই, রাজনৈতিক থিয়েটারের নামে শ্রেণিদ্বন্দ্বের শাশ্বত সত্য ক্লিশে ঘটনার মধ্য দিয়ে নাটকে উপস্থিত করলেই শ্রেণি সংগ্রাম এগিয়ে যাবে।

শিল্পের এই একপেশে ধারণা আজ বদলে গেছে। অথচ আশ্চর্য ‘প্রসেনিয়াম পত্রিকা ‘-এ অমৃতলাল, পিরানদেল্লো বা আর্থার মিলারকে অপ্রয়োজনীয় বলে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অথচ বাংলা নাট্য ইতিহাসে আজ প্রায় অনুচ্চারিত প্রযোজনাকে প্রশংসার সার্টিফিকেট দিয়েছেন সমালোচক। নীচে তিনটি এই ধরনের সমালোচনার কিছুটা তুলে দেওয়া হল : সমালোচনা তিনটি পত্রিকার তৃতীয় বর্ষ সপ্তম সংখ্যা, ফাল্গুন ১৩৭২-এ প্রকাশিত হয়।

থিয়েটার ক্যাম্পের ‘মুদ্রারাক্ষস’ : “ক্ষয়িষ্ণু ধনতান্ত্রিক সমাজের পর্বতপ্রমাণ অন্যায়-অবিচার শোষণ যখন আমাদের সমাজ জীবনে এক দুঃসহ হতাশার সৃষ্টি করেছে, তখন ‘থিয়েটার ক্যাম্প’-এর ‘মুদ্রারাক্ষস’ নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের নাট্য আন্দোলনের ক্ষেত্রে এক বলিষ্ঠ সংযোজন।

সরল আদর্শবাদী শিক্ষক অসীম শিক্ষকতাকে কেবলমাত্র অর্থোপার্জনের মাধ্যম বলেই গণ্য করে না—প্রাচীন আদর্শবাদের পথেই তার যাত্রার প্রচেষ্টা। কিন্তু কর্মজীবনের সূচনা থেকেই তার সমাজ অনভিজ্ঞ, কেতাব সর্বস্ব মন পদে পদে বাধা পায় বাস্তবের কঠিন পাথরে।…

বাস্তবজ্ঞানহীন, আদর্শবাদী অসীম বিভিন্ন ঘটনার ঘাত-প্রতিঘাতে জানতে শেখে সমাজকে, চিনতে শেখে জীবনকে। নূতনতর এক অভিজ্ঞতা মুহূর্তে তাকে উন্নীত করে এই সবের ওপরে।…

‘মুদ্রারাক্ষস’ নাটকটিকে নিছক ভাবাবেগের ওপর না রেখে, দ্রুত ঘটনার পর ঘটনা অত্যন্ত সহজভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থিত করেন নাট্যকার কনিষ্ক সিংহ। সেখানে দর্শক প্রতিটি Problem কে গ্রহণ করেছেন বা বর্জন করেছেন চিরাচরিত ভালোলাগা না লাগার পদ্ধতিতে নয়, আপন বিচারশীল মনের, সমাজে দৈনন্দিন জীবন সংগ্রামের অভিজ্ঞতার আলোকে। তাই ‘মুদ্রারাক্ষস’ নাটকের বিরতিতে ও শেষে তর্কের ঝড় উঠবে—নাট্যকারের এতবড় গৌরব সচরাচর বিরল।”

 

Google News প্রসেনিয়াম পত্রিকা, নাট্যপত্র - আশিস গোস্বামী
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

তৃতীয় বর্ষ একাদশ সংখ্যা, আষাঢ় ১৩৭৩-এ প্রকাশিত হয় উত্তরী গ্রুপ থিয়েটার প্রযোজিত ‘দুষমন’ : “আঙুলের কর গুণে বলে দেওয়া যায় ক’জন নাট্যকার মানুষের সংগ্রামে আস্থা রেখে নাট্য রচনা করেছেন। যারা করেছেন তারাও সব সময় উৎকৃষ্ট নাটক দিতে পারছে না। কিন্তু নির্মল ঘোষের ‘দুষমন’ সে অভাব মেটাবে। এ নাটক নাট্যআন্দোলনের একটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

….সমস্ত নাটক জুড়ে রয়েছে শ্বাসরোধকারী ঘটনা স্রোতের বন্যা। কিন্তু অত্যন্ত সুখের কথা ঘটনার আবর্তের মধ্যেই নাটক খেই হারিয়ে ফেলেনি। নাটকের বক্তব্য ঘটনা পেরিয়ে দর্শক মনে সঞ্চারিত হয়েছে।…

উত্তরী গ্রুপ থিয়েটারের এই প্রযোজনা গণশিল্পী সংস্থার কার্যক্রমকে এবং গণনাট্য আন্দোলনকে নিঃসন্দেহে জোরদার করবে। আমরা চাই, বাংলাদেশের সর্বত্র এ নাটকের অভিনয় হোক।”

ওই একই সংখ্যায় প্রকাশিত আর একটি সমালোচনা শিল্পীমন প্রযোজিত ‘দিগন্ত রক্তিম’, “একটি নাটকের মাত্র দু’ঘণ্টা পনের মিনিটের ভিতর সমগ্র ভাবে যুগযন্ত্রণা ও তার সংগ্রামী রূপকে তুলে ধরে যে প্রচেষ্টা শিল্পীমন করেন তা সত্যই প্রশংসার যোগ্য।…

‘দিগন্ত রক্তিম’এর প্রয়োগ রীতি অতি আধুনিক হলেও বারবার নাটকের বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনার কায়দা দেখে অডেটসের নাটকের কথা মনে হয়। বিশেষ করে “Waiting for Lefty’-র। এদিকে নাট্যকার সিরাজ চৌধুরির সংলাপ অত্যন্ত শক্তিশালী।…’দিগন্ত রক্তিম’ জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও সমস্ত গণনাট্যের সংগঠনগুলিরই ভবিষ্যৎ পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ প্রশস্ত হবে।”

প্রসেনিয়াম পত্রিকায় দুটি পেশাদার মঞ্চ প্রযোজনার সমালোচনা প্রকাশিত হয়েছিল। অন্তত যে ক-টি সংখ্যার হদিশ পাওয়া গেছে (প্রথম বছরের একটি সংখ্যাও পাওয়া যায়নি) তার মধ্যে ওই দুটির আলোচনাই রয়েছে। দুটিতেই সমালোচক অত্যন্ত ক্রুদ্ধ ভাবেই আক্রমণ করেছেন। এমনকি শালীনতার মাত্রাও ছাড়িয়ে গেছে। কোনো প্রযোজনা বা বিষয়ের প্রতি বীতরাগ থাকতেই পারে কিন্তু সমালোচককে নাট্যের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই আলোচনা করতে হয়। কিন্তু এখানে ভাষাটা অন্যরকম—

তৃতীয় বর্ষ দশম সংখ্যা, জৈষ্ঠ্য ১৩৭৩-এ প্রকাশিত হয় বোকার যাত্রা : বিশ্বরূপার বাধা । “বিশ্বরূপায় ‘রাধা’ তারাশংকরের কালজয়ী উপন্যাস ‘রাধা’ অবলম্বনে বলে বিজ্ঞাপিত হচ্ছে। তারাশংকরের ‘রাধা’ পড়েছিলাম।

মনে হয়েছিল ‘রাধা’ উপন্যাস প্রতিক্রিয়াশীল এবং বেশ কিছু অংশে বিরক্তিকর। তবুও কিন্তু সেটি তারাশংকরেরই একটি নিকৃষ্ট রচনা, অন্য কারোর নয়। কিন্তু বিশ্বরূপায় ‘রাধা’ দেখে মনে হল নাটকটি (৭) রাম-শ্যাম কিংবা যদুচরণ নামে কোনো চতুর্থ শ্রেণীর হস্তিমূর্খের রচনা।

কোথায় তারাশংকরের ‘রাধা’?…তারাশংকরের কাহিনী ‘রাধা’ অবলম্বন করে আর কিছু না হোক একখানি দ্বিতীয় শ্রেণীর প্রতিক্রিয়াশীল নাটক লেখার সুযোগ ছিল। দর্শককে মধুর রসে’ বিভোর করে ‘রাধা ভাবসাগরে অবগাহন করান যেন। তাতে হয়তো তাঁরা অন্তত কিছুক্ষণের জন্যও খাদ্য আন্দোলন, ইনকিলাব-জিন্দাবাদ, ময়দানে কল্লোল ইত্যাদি ভূলতে পারতেন। কিন্তু দ্বিতীয় শ্রেণীর কথা বাদই দিলাম, যে বিদ্যাবুদ্ধি থাকলে একখানি চতুর্থশ্রেণীর প্রতি ক্রিয়াশীল নাটক লেখা যায় সে বিদ্যা-বুদ্ধির পরিচয়ও নাট্যকার এই নাটকে দিতে পারেননি।

এ নাটককে প্রতিক্রিয়াশীল বললে প্রতিক্রিয়াশীল কথাটির অপমানই হয়। নিম্নমানের প্রতিক্রিয়াশীল হতে গেলেও কিছু বিদ্যা-বুদ্ধির প্রয়োজন। পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেস সরকারকেও এই নাটকের নাট্যকার-পরিচালকের অপেক্ষায় বিদ্বান ও বুদ্ধিমান বলেই মনে হয়েছে। প্রসঙ্গক্রমে বলে রাখি তারাশংকরের কাহিনি অবলম্বনে থিয়েটার স্কোপ নাট্য রচনা ও পরিচালনা করেছেন শ্রী রাসবিহারী সরকার।”

অন্য সমালোচিত ওই একই সংখ্যায় প্রকাশিত হয়। স্টারের দাবী “দেখে মনে হল। নাট্যকার দেবনারায়ণ গুপ্ত চাঁদের দেশে বসে নাটক লিখেছিলেন। ইট-কাঠের দুনিয়ার পরিচয় তিনি রাখেন না, আর না হয় ইচ্ছা করে ভুলে যাওয়া হয়। তবে কী তা ‘একক দশক শতক’-এর শিক্ষা?

সাংসারিক অনটন, রাজনীতি, ধর্ম ও আধুনিকতার ভীতু ভীতু সমালোচনা এ নাটকে কিছু আছে। কিন্তু কথাবার্তায় শাসক শ্রেণীর সম্পর্কে কিছু কিছু বক্রোক্তি থাকলেও এঁদের ধারণা অন্ধকারের পর আলো আসবেই। আর সে আলো আপনিই আসবে।

আর নাটকের শেষে মিস্টার আচারিয়া উপসংহার টানেন—সন্তানের ওপর মায়ের দাবী যখন স্বীকৃত হল, তখন দেশের গরিব-বড়লোকদের সমস্যার সমাধান হবেই, অন্ধকারের পর আলো আসবেই। যবনিকা নেমে আসে।

 

ActingGOLN.com, Logo, 512x512

 

নাটকের শিক্ষা :

সন্তানের ওপর মায়ের দাবী যখন স্বীকৃত হয়েছে, তখন আমাদের আর কোনো কিছু নিয়ে আন্দোলন করবার দরকার নেই। ইন্‌কিলাব জিন্দাবাদের কোনো প্রয়োজন নেই, অন্ধকারের পর আলো আসবেই। এমনকি আসন্ন নির্বাচনে কংগ্রেসকে ভোট দিলেও আলো যা জ্বলার জ্বলবেই।”

‘প্রসেনিয়াম পত্রিকার এই ধরনের উগ্র সমালোচনার দিকটিই এর স্বাতন্ত্র্য। রাজনৈতিক ছকে ফেলে শিল্পের এই ধরনের বিচার কিন্তু সর্বত্র দেখা যায়নি। ‘অভিনয় দর্পণ’-এর মতো পত্রিকায়ও রাজনৈতিক দৃষ্টিজাত সমালোচনা ছিল, কিন্তু শিল্পের বিচার করবার মুক্ত দৃষ্টিভঙ্গিটাও ছিল, প্রসেনিয়াম পত্রিকায় তারই অভাব লক্ষিত হয়েছে বারবার।

[ প্রসেনিয়াম পত্রিকা, নাট্যপত্র – আশিস গোস্বামী ]

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    মন্তব্য করুন

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।