কার পাপে চলচ্চিত্র

কার পাপে চলচ্চিত্র

কার পাপে চলচ্চিত্রটি নিয়ে আমাদের আজকের আলোচনা- চলচ্চিত্রটি কালী প্রসাদ ঘোষ পরিচালনা করেন এবং শঙ্কর পিকচার্স পরিবেশিত করেন। এই চলচ্চিত্রটি ১৫ আগস্ট ১৯৫২ সালে এম.পি. প্রোডাকশনস প্রাইভেট লিমিটেড ব্যানারে মুক্তি পেয়েছিল। এই সিনেমাটির মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেন উত্তম কুমার, ছবি বিশ্বাস এবং অসিতবরণ।

 

 

কার পাপে চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

কার পাপে চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা-এম. পি. প্রোডাকসন।
  • কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা — কালীপ্রসাদ ঘোষ ।
  • সংগীত পরিচালনা – অনুপম ঘটক।
  • গীতিকার – শৈলেন রায়।
  • চিত্রগ্রহণ পরিচালনা — বিস্তৃতি রাহা।

কার পাপে চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

মঞ্জু দে, অসিতবরণ, ছবি বিশ্বাস, উত্তমকুমার, রেণুকা রায়, রেবা দেবী, গীতশ্রী দেবী, অপর্ণা দেবী, পুত্র মল্লিক, সলিল দত্ত, সুধাংশু গঙ্গোপাধ্যায়, জয়শ্রী সেন, লক্ষ্মী রায়, রেখা চট্টোপাধ্যায়।

 

কার পাপে চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

কার পাপে চলচ্চিত্রের কাহিনি—

ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র অসীম (অসিতবরণ) বাবার মৃত্যুর পর অগাধ ধনসম্পত্তির মালিক হয়ে উচ্ছৃঙ্খল জীবনযাপনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। এই অসংগত জীবনযাপনের ফলে সে সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হয়ে ডাঃ বোসের (ছবি) শরণাপন্ন হয়। কিছুদিন চিকিৎসায় সে আংশিক রোগ মুক্তির পর ডাক্তারের আপত্তি সত্ত্বেও নিজের রোগের কথা গোপন করে বিউটিকে (মঞ্জু) বিয়ে করে।

পাঁচ বছরে বিউটির কয়েকটি সন্তান নষ্ট হয় এবং শেষ পর্যন্ত সে একটি রুম সন্তানের জন্ম দেয়। বিউটি একই রোগে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ অবস্থায় শঙ্করের (উত্তম) সাহায্যে ডাঃ কাছে চিকিৎসার জন্য উপস্থিত হয়। অসীমের বোন সন্ধ্যা(গীতশ্রী) ও তার প্রেমিক শঙ্কর ছাড়া পরিবারের সকলেই বিউটিকে তার রোগের জন্য দোষারোপ করে।

ডাঃ বোস বিউটিকে প্রশ্ন করে বুঝতে পারেন যে সে অসীমের স্ত্রী এবং অসীমের কাছ থেকেই সে সিফিলিস রোগে আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে সে অসুস্থ সন্তানের জন্ম দিয়েছে। এমনকী বিউটির কসমেটিক্স ব্যবহার করে অসীমের বোন সন্ধ্যাও এই রোগে আংশিক আক্রান্ত হয়।

 

Google News কার পাপে চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

ডাঃ বোস বুঝতে পারেন অসীম স্ত্রীর কাছে নিজের রোগের কথা গোপন করতে গিয়ে তার ন্যূনতম চিকিৎসার ব্যবস্থাও করে নি। অন্যদিকে অসীমের মা পুত্রের আবার বিয়ের চেষ্টা শুরু করেন এবং পুত্রবধূকেই এই রোগের জন্য দায়ী করে নানাভাবে গঞ্জনা দিতে থাকেন। অসীমও নিজের দোষ ঢেকে রেখে নতুন বিয়েতে আগ্রহী হয়।

বিউটি বুঝতে পারে অসীমের লালসা আরও একটি নিরপরাধ মেয়ের জীবনে অভিশাপ নিয়ে আসছে, সে গুলি করে স্বামীকে খুন করে নিজে আত্মসমর্পণ করে সকলের কাছে অসীমের মুখোশ খুলে দেয়।

১৯৫২ সালে এই ধরনের বলিষ্ঠ বিষয় নিয়ে তৈরি এই ছবি সমালোচকদের সাথে সাথে আগ্রহী দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেছিল।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    মন্তব্য করুন

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।