কালপুরুষ চলচ্চিত্র

কালপুরুষ চলচ্চিত্র

কালপুরুষ চলচ্চিত্রটি  হল বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত পরিচালিত ও রচিত। ২০০৫ সালের একটি ভারতীয় বাংলা নাটক চলচ্চিত্র। ছবিটিতে মিঠুন চক্রবর্তী এবং রাহুল বোস প্রধান চরিত্রে অভিনয় করেছেন।

টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে ছবিটির ১২০ মিনিটের সংস্করণ প্রদর্শিত হয়। যদিও চলচ্চিত্রটি ২০০৫ সালে শেষ হয়েছিল, এটি ২০০৮ সালে ভারতে মুক্তি পায়। চলচ্চিত্রটি ২০০৬ সালে সেরা ফিচার ফিল্মের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে এবং মিঠুন সেরা অভিনেতা বিভাগে মনোনীত হন।

 

 

কালপুরুষ চলচ্চিত্র

  • প্রযোজনা – যুগল সৌগন্ধ প্রোডাকসন্স।
  • কাহিনি, চিত্রনাট্য ও পরিচালনা – বুদ্ধদেব দাশগুপ্ত।
  • চিত্রগ্রহণ—সুদীপ চট্টোপাধ্যায়।
  • সংগীত পরিচালনা — বিশ্বদেব দাশগুপ্ত।
  • শিল্প নির্দেশনা— সমীর চন্দ।
  • শব্দগ্রহণ – অনুপ মুখোপাধ্যায়।
  • সম্পাদনা- সঞ্জীব দত্ত।
  • গীতিকার – বুদ্ধদের দাশগুপ্ত।
  • নেপথ্য কণ্ঠ – শ্রীকান্ত আচার্য, শ্রেয়া ঘোষাল।

কালপুরুষ চলচ্চিত্রে যারা অভিনয় করেছেন —

মিঠুন চক্রবর্তী, রাহুল বসু, সমীরা রেড্ডি, সুদীপ্তা চক্রবর্তী, লাবণী সরকার, সাহিক চৌধুরী, তপস্যা সেনগুপ্ত, সুনীল মুখোপাধ্যায়, শুভাশিস মুখোপাধ্যায়, অনিরুদ্ধ ধর, ডঃ কিরণ।

 

 

কালপুরুষ চলচ্চিত্রের কাহিনি—

এই ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র সমস্ত (রাহুল) কলকাতায় একটি অফিসে চাকরি করে। অফিসে তার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ, তার সহকর্মীরা এমনকী তার স্ত্রী সুপ্রিয়াও (সমীরা) তাকে করুণা করে, অকর্মণ্য বলে মনে করে। সুপ্রিয়া ভালোবাসে অন্য একজন পুরুষমানুষকে এবং তার দুই সন্তান শাস্তা ও শান্তনু, সুপ্রিয়ার প্রেমিকের ঔরসেই তার গর্ভে আসে। সুদ সমস্ত বিষয়টি জানলেও শাস্তা ও শান্তনুকে নিজের সন্তানের মতো ভালোবাসে। সুপ্রিয়ার ধ্যান-জ্ঞান হল আমেরিকা, সে আমেরিকাকে মানব জীবনের স্বর্গরাজ্য বলে মনে করে।

ছেলেবেলায় সুমন্ত্র একটি গ্রামে ছিল, তার বাবা ছিলেন ডাক্তার, নাম অশ্বিনী (মিঠুন) এবং মা পুতুল (লাবণী)। সুমন্ত্র যখন কিশোর তখন সে এবং তার মা অশ্বিনীর বিবাহপূর্ব প্রেমিকা আভার (সুদীপ্তা) কথা জানতে পারে এবং পুতুল অশ্বিনীকে ভুল বুঝে সন্তানকে নিয়ে তার বাবার বাড়িতে চলে যায়। এমনকী ঐ সময় সুমন্ত্র পিতাকে হত্যা করতেও চেয়েছিল। স্ত্রী এবং পুত্রের তাকে সম্পূর্ণ ভুল বুঝে ছেড়ে চলে যাওয়া অশ্বিনী মানতে পারে নি, সে স্বেচ্ছামৃত্যু বরণ করে।

 

Google News কালপুরুষ চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

এখন পুতুল গ্রামের বাড়িতে থাকে এবং সুমন্ত্র মাঝে মাঝে পুত্র কন্যাকে নিয়ে মায়ের কাছে যায়। বর্তমানে পুতুল ও সুমন্ত্র অশ্বিনীকে নিয়ে তাদের ভুল বুঝতে পেরেছে, অশ্বিনী তাদের স্বপ্নে বার বার দেখা দেয়, ভুল বোঝার পর তারা যে কথা অশ্বিনীকে বলতে চেয়েছিল কিন্তু বলবার সুযোগ পায় নি সেগুলি জানাবার চেষ্টা করে।

এমনকী সুমন্ত্র তার প্রয়াত বাবাকে বলার চেষ্টা করে সংসারে, কর্মস্থলে এত অবহেলা সত্ত্বেও সে বেঁচে থাকতে ভালোবাসে। সুপ্রিয়া সুমন্ত্রকে ছেড়ে তার প্রেমিকের কাছে চলে গেলেও সে সন্তানদের নিজের কাছে রেখে দেয়, সন্তানরাও তাদের পালিত বাবাকে ছেড়ে মায়ের সাথে চলে যেতে চায় না, মাঝে মাঝেই সুমন্ত্র কল্পনায় ছেলেবেলার বাঁশিওয়ালা ও তার সন্তানের সাক্ষাৎ পায়, ছেলেবেলার বাঁশির সুরে সে এখনও আগের মতোই মুগ্ধ হয়।

পুরস্কার—

২০০৮ সালে ছবিটি সেরা ছবির জাতীয় পুরস্কার স্বর্ণকমল লাভ করে।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    মন্তব্য করুন

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।