অভিনেত্রী দেবযানী

দেবযানী, জন্মনাম ঊষা দত্ত, ছিলেন ১৯৫০-এর দশকের বাংলা চলচ্চিত্রের এক প্রতিভাবান অভিনেত্রী। অল্প সময়ের চলচ্চিত্রজীবন সত্ত্বেও তিনি সাহিত্যনির্ভর ও পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর ছবিতে সংযত অথচ আবেগঘন অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শক ও সমালোচকদের নজর কেড়েছিলেন।

 

অভিনেত্রী দেবযানী

 

জন্ম শিক্ষা

দেবযানীর জন্ম কলকাতায়। প্রথাগত পড়াশোনায় তিনি ছিলেন মেধাবী ছাত্রী। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জনের পর তিনি স্নাতকোত্তর শিক্ষার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তবে পড়াশোনা অসমাপ্ত রেখেই চলচ্চিত্রে যোগ দেন এবং অভিনয়কেই জীবনের পেশা হিসেবে বেছে নেন।

 

চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ

চলচ্চিত্র জগতে তাঁর প্রথম কাজ ছিল মধু বসু পরিচালিতমাইকেল মধুসুদন” (১৯৫০)। এখানে তিনি মাইকেলের স্ত্রী হেনরিয়েটার চরিত্রে অভিনয় করেন। প্রথম ছবিতেই তাঁর সংযত ও স্বাভাবিক অভিনয় নজর কাড়ে।

এরপর একে একে তিনি একাধিক ছবিতে অভিনয় করেন, যার মধ্যে অনেকগুলো সাহিত্যকাহিনি বা পৌরাণিক কাহিনিনির্ভর।

 

উল্লেখযোগ্য চরিত্র অভিনয়

  • মণিকারূপান্তর (১৯৫১)
  • কল্যাণীস্পর্শমণি (১৯৫১)
  • সীতাসীতার পাতাল প্রবেশ (১৯৫৩) – পৌরাণিক চরিত্রে তাঁর অভিনয় বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়।
  • সুষমাতাসের ঘর (১৯৫৭)
    এছাড়াও রোশেনারা (১৯৫৩), মা অন্নপূর্ণা (১৯৫৪), জয়দেব (১৯৫৪) ইত্যাদিতেও তিনি অভিনয় করেন।

তাঁর অভিনয়শৈলীতে আবেগপ্রবণতা, সংযম এবং চরিত্রের বাস্তবতার প্রতি নিষ্ঠা লক্ষ করা যেত।

 

সহকর্মী পরিচালকদের সঙ্গে কাজ

তিনি কাজ করেছেন বাংলা চলচ্চিত্রের প্রখ্যাত একাধিক পরিচালকের সঙ্গে—

  • মধু বসু
  • অর্ধেন্দু মুখোপাধ্যায়
  • হরি ভঞ্জ
  • ফণী বর্মা
  • মঙ্গল চক্রবর্তী

এই পরিচালকদের ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও শৈলীর ছবিতে দেবযানী নিজেকে মানিয়ে নিয়ে তাঁর বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দিয়েছিলেন।

 

চলচ্চিত্রপঞ্জি

  • ১৯৫০ – মাইকেল মধুসুদন
  • ১৯৫১ – রূপান্তর, স্পর্শমণি
  • ১৯৫৩ – রোশেনারা, সীতার পাতাল প্রবেশ
  • ১৯৫৪ – মা অন্নপূর্ণা, জয়দেব
  • ১৯৫৭ – বাকসিদ্ধ, অভিষেক, তাসের ঘর, মাথুর

 

শেষ জীবন মূল্যায়ন

দেবযানীর অভিনীত শেষ ছবি ছিল মাথুর (১৯৫৭)। মাত্র সাত বছরের সংক্ষিপ্ত চলচ্চিত্রজীবনে তিনি প্রায় এক ডজন ছবিতে অভিনয় করে গিয়েছিলেন। যদিও তাঁর ক্যারিয়ার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, তবুও তিনি ১৯৫০-এর দশকের বাংলা চলচ্চিত্রে একজন সংবেদনশীল চরিত্রাভিনেত্রী হিসেবে চিহ্নিত হয়ে আছেন।

তাঁর নাম আজও স্মরণ করা হয় বাংলা চলচ্চিত্রের সেই প্রজন্মের অংশ হিসেবে, যাঁরা সাহিত্য, পৌরাণিকতা ও সামাজিক কাহিনিনির্ভর ছবিকে সমৃদ্ধ করেছিলেন।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    মন্তব্য করুন

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।