খ্যাপা পাগলার প্যাঁচাল, নাটক
খ্যাপা পাগলার প্যাঁচাল, নাটক

খ্যাপা পাগলার প্যাচাল [ নাটক ] এস এম সোলায়মান

খ্যাপা পাগলার প্যাচাল

প্রথম প্রদর্শনী : ২৩ অক্টোবর ১৯৭৯

প্রযোজক দল : পদাতিক নাট্য সংসদ
প্রদর্শনীর স্থান : বটতলা, কলাভবন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

কুশীলব

খ্যাপা : আবুল কাশেম দুলাল
আমজাদ আলী মিস্ত্রী : আবু মোঃ মুরতাইশ কচি
ঘোষক : খান আনিসুজ্জামান মানিক
জনতা : সিদ্দিকুর রহমান নশু
কোরাস : এস এম সোলায়মান, নওশের, কাওসার চৌধুরী, আতিক, শিউলী রহমান, রোকেয়া রফিক বেবী, রিমা, রফিক আহমেদ সিদ্দিকী

কলাকুশলী

নির্দেশনা ও পোশাক পরিকল্পনা : এস এম সোলায়মান
প্রযোজনা আহ্বায়ক : গোলাম কুদ্দুছ
সেট : সেলিম
রূপসজ্জা : বঙ্গজিৎ দত্ত

খ্যাপা পাগলার প্যাচাল [ নাটক ] এস এম সোলায়মান

[ খ্যাপা পাগলার প্যাচাল [ নাটক ] এস এম সোলায়মান ]

[ উন্মুক্ত মঞ্চ। পিছনে ক্যানভাসে মুক্তিযুদ্ধের চিত্র, কোরাস দল ঢুকে জারি গান শুরু করে। পরিবেশটা একটা আলোচনা এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উপযোগী।]

কোরাস:

মরি হায়রে হায় লজ্জার কিছু নাই
পথে ঘাটে নাটক করি নতুন দর্শক চাই৷
ওস্তাদ আমার কানাইলাল লালন ফকির শুরু
খ্যাপা পাগলার নামে এবার জারি করলাম শুরু!
এই বাড়িটার বুইড়া ব্যাটা ঐ বাড়িতে যায়
পথে দেখি মরা ইঁদুর দুই হাতে কিলায়।।

সিনেমাতে যাইয়া দেখি আজব কারবার ভাই
নায়িকার মাইর খাইয়া ভিলেন বান্দর নাচ নাচায়।।

তোমার কাছে বন্দুক কামান নাটক আমার কাছে
এই বলিয়া চ্যাংরা পোলা ফাল পাড়িয়া নাচে।।

[ টুপি, কোর্তা ও সাদা লুঙ্গি পরা একজন লোক ঢোকে। কোরাসের গান বন্ধ হয়ে যায়। ]

ঘোষক :

সমবেত সুধীবৃন্দ, আজ সেই দিন। যেদিন বাংলার হাজারো দামাল সন্তানের রক্তে রঞ্জিত হয়েছিল সবুজ বনানী। ঠিক এমনি একটা দিনে আমরা হারিয়েছি একজন অকুতোভয় সৈনিককে, যিনি দেশমাতৃকাকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে গিয়ে সম্মুখ সমরে আত্মাহুতি দিয়েছেন।

সেই শহীদ বন্ধুর স্মৃতিকে চির অম্লান করে রাখার জন্য আমরা আমাদের সংসদের নাম রেখেছি ‘তপু স্মৃতি সংসদ’। আজ তাঁরই স্মরণে এই আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্রারম্ভেই আমি পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি, আমাদের সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, অক্লান্ত সমাজসেবী, শ্রদ্ধেয় জনাব আমজাদ আলী ব্যাপারিকে। শ্রদ্ধেয় জনাব আমজাদ আলী ব্যাপারির বক্তব্যের পরপরই শুরু হবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সুধীমণ্ডলী, বক্তব্য রাখছেন জনাব আমজাদ আলী ব্যাপারি।

আমজাদ:

স্নালামালেকুম, আমি হালায় আর কি কমু। এক হালা তো বেবাক কইয়া ফালাইছে। আমি ভি সব সমর্থন করতাছি। ঐ ছেমরা কইছে, আমি ব্যবসা করি, সমাজসেবা করি, আর এওগা ভি কাম করি। হালায় কইতে ভুইলা গ্যাছে। হেইডা অইতেছে গিয়া পলিটিক্স্। বুঝবার পারছেন, নতুন নাম লেখাইছি আর কি!… তো কথা হইতাছে গিয়া, তুপা না সুপা

ঘোষক:

তপু।

আমজাদ :

তপু, তপু এওগা পোলা আছিল, পোলাডা ভালোই আছিল। হালায় মইরা গ্যাছে, মইরা গিয়া শহীদ হইয়া গ্যাছে। কথা হইতেছে, হেই পোলা যদি গণ্ডগোলের টাইমে মইরা গিয়া শহীদ হইয়া যাইবার পারে, তয় আমরা হালায় ফাংশান করবার পারুম না কেলা? আমি আপনাগো লগে আছি, ট্যাকা পয়সার লাইগ্যা চিন্তা কইরেন না। মালপানি যা লাগে দিমুনে, মগর এওগা কন্ডিশান। ঐ রশিদ ব্যাপারির কাছে কিনারে কেউ যাইবার পারবেন না।

রশীদ ব্যাপারি শহীদ মিনার বানাইছে দুই লম্বর ইটা দিয়া, আমি আপনাগোরে লোহা কাঠ দিয়া বানাইয়া দিমুনে। রশীদ ব্যাপারি কেলাব বানাইছে আর ঐ কি য্যান কয়, সঙ্কলন ছাপছে। হের ভিতরে হান্দাইছে সাবিহার ফটো। টেকা পয়সা তো আর আল্লায় আমারে কম দেয় নাই। সঙ্কলন আপনেরাও ছাপবেন। আমাগোডায় আমরা লীলুর ছবি ছাপমু।

[ঘোষককে ঐ মিয়া, আপনে লীলুর ইশকে মোহাব্বত দ্যাখছেন না? হের ভিতরে লীলুর যে এওগা ড্যান্স আছে না! হের এওগা ছবি ছাপাইবার পারলে ঐ মাংগির পো রশিদ ব্যাপারি কি টিকবার পারবো? পারবো না হালায়। আমার লগে টক্কর দিবার আহে। ঠিক আছে। হুনেন, আপনেরা গান বাজনা হুনেন। আহি, শ্লামালেকুম।

কোরাস:

মুক্তির মন্দিরে সোপানতলে কতো প্রাণ হলো বলিদান
লেখা আছে অশ্রুজলে
কতো বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা বন্দিশালার ঐ শিকল ভাঙা
ওরা কি ফিরিবে না আর সুপ্রভাতে
কতো তরুণ-অরুণ গ্যাছে অস্তাচলে

 

আমজাদ :

[ঘোষককে) ঐ মিয়া! হালায় কি আউরা জাউরা গাইবার লাগছে? একখান সরস ডিসকো বিবি লাগান না।

ঘোষক:

ডিস্কো বিবি। মানে ফিল্মি গান?

আমজাদ :
হ হ।

ঘোষক:

জি, মানে, এটাতো গণসঙ্গীতের আসর। এখানে ফিল্মি গান আরে থোন মিয়া। সঙ্গীত তো সঙ্গীতই, গনমন আবার কি? না অয় মিয়া আমারেই কইতেন। আমি করম আলী কাওয়ালরে খবর দিতাম। দেহি, অখনও খবর পৌঁছাবার পারি কি না। আবে ঐ শরীয়ত আলী! করম হালারে অক্ষণি খবর পৌঁছাইবি, কইবি আমি ভি আইবার কইছি। আপনাগো এই গন না মন কি, এটা চালাইবার কন।

কোরাস:

তীরহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে
আমরা ক’জন নবীন মাঝি হাল ধরেছি শক্ত করে রে….

[গান চলাকালীন সময়েই একজন পাগল অনুষ্ঠান মণ্ডপে ঢুকে পড়ে]

আমজাদ:

ঐ হালায়। কেডা তুমি? দ্যাখবার পাওনা গানা বাজনা চলতাছে?

পাগল:

গান। হ, গান একদিন আমিও গাইতাম। হাতে রাইফেল মুখে গান। অন্তর থেইক্যা ভাইস্যা আসা গান। ঢোল নাই, কাঁসা নাই। পায়ের নিচ থেইক্যা ভাইস্যা আসে ঠকঠক ঠকঠক বুটের আওয়াজ, দূরের ঝাউবন বাতাসের দোলায় কাঁপে। আসমানের চান্দ ঝিলিক দিয়া হাসে। বুকের খুন টগবগ কইরা ফোটে। হায়েনার দল রাইতের আন্ধারে শিকার খুঁইজ্যা বেড়ায়।

জোয়ান মাইয়া মানুষের নরম শরীর দুমড়াইয়া মোচড়াইয়া ভাঙ্গে। অবলা মাইয়া মানুষ চিৎকার দিয়া কানবার চায়। ছয় ফুট লম্বা লাল কুত্তার বাচ্চারা চুইষ্যা চুইষ্যা খায় মাইয়া মানুষের নরম শরীর। কান্দন। অন্তর থেইক্যা ভাইস্যা আসে কান্দন। বিচার দেয় আল্লার কাছে, এক লাখ চব্বিশ হাজার পয়গম্বরের দোহাই দিয়া কয়, আল্লার কছম লাগে এবার ছাইড়া দাও। মগর আমি?

কান্দন আমি ভুইল্যা গেছিলাম। হাতের যন্ত্র ইস্রাফিলের ফুংগা হইয়া মাতম তোলে ঠাস্ ঠাস্ ঠাস্ টা টা টা টা টা টা গুম। টাটা গুম। আঃ। দক্ষিণের ঝাউবন থেইক্যা ভাইস্যা আসে চিৎকার। আঃ আঃ আঃ, শেষ, শেষ, হায়েনার দল শেষ, টাউটের দল শেষ। দালালের দল শেষ।

আমজাদ:

আবে, ঐ হালার পো, প্যাচাল ছাড়বার লাগছস। কইলাম না গানা বাজনা চলতাছে?

জনৈক:

আহা, শুনিনা লোকটা কি বলতে চায়।

পাগল:

মানুষ ভুইল্যা গেছে সব। মগর ভুলি নাই আমি। ঐ মিয়ারা, ক্যান ভুলি নাই? ক্যান, ক্যান লাল খুনে ভাইস্যা গেছিল পাও?

ঘোষক:

তোমার পায়ে হয়েছিল কি?

পাগল:

লাগছিল গুলি, ভাঙছে খুলি। হইছি খোড়া, লাগবে না জোড়া।

ঘোষক:

তুমি কোনো ডাক্তার দেখাও নি?

পাগল:

না, ও থাইক আমার অঙ্গের ভূষণ হইয়া। শরীরের ক্ষত শুকাইয়া গ্যাছে বইলাই তো শুকাইয়া গ্যাছে মনের ক্ষত। একাত্তুরের ডাক আমারে বানাইছিল ফেরেশ্তা, চুয়াত্তরের ষড়যন্ত্র আমারে বানাইছে ডাকাইতের সর্দার। সাদা চামড়া হইয়া গ্যাছে সিগারেটের ছাই। কিন্তু কেডা, কেডায় করছে আমার এই অবস্থা? হেরা কয় আমি। আমি কই, না।

একাত্তুরের দালাল রমজান মাতবর হইয়া গ্যাছে দেশের মা-বাপ। আমি ভুলবার চাই, ভুলবার পারি না। দালালের দল আমার এই পায়ে ঢুকাইয়া দিছিল আগুন সেঁকা লাল শিক, আমার বউডারে বানাইছে বেশ্যা পাড়ার মাগি। তিয়াত্তর থেইক্যা ছিয়াত্তর, আমারে কইরা রাখছে জেলখানার কয়েদি। তিনবছর তিন মাস বউ পোলার খবর লইবার পারি নাই।

চান্দের মতন পোলা আমার ভাতু ভাতু কইরা মরছে, ছয় বছরের মাইয়াডা বাপজান বাপজান কইরা কান্দছে। আমি পারি নাই হেগোরে ঐ আজরাইলের হাত থেইক্যা বাঁচাইতে। নয় বছর ধইরা যে বউ আমার বক্ষ জুইড়া ছিল, হেও আইজ নাই, ঐ মাতবর হেরেও কাইড়া নিছে। তুমি মাতব্বরের বিরুদ্ধে নালিশ করলেই পারো।

 

জনৈক:
ঐ হালা মাংগির পো, তর মায়রে বাপ। আইছস গানা বাজনা হুনবার লাইগ্যা, হুন; ভালা না লাগলে কাট, মগর শহীদ দিবসের বেইজ্জতি করবার পারবি না।

জনৈক :
আপনি চুপ করুন, আমাদের ভাল লাগছে। আমরা শুনব।

পাগল:
কেডা হুনে কার কথা। এই দুইন্যায় হগলে বিচার পায়, খালি পায় না আমার মতন পাগলরা। পোলাপাইন পাথর ছুইড়া মারে। গায়ে দিয়া টস টস কইরা ঝইরা পড়ে খুন। তামাম দুইন্যার মানুষ বত্রিশ দাঁত বাইর কইরা হি হি কইরা হাসে। ঐ মিয়ারা ভুইল্যা গ্যাছো? হগলেই ভুইল্যা গেছে। মগর ভুলি নাই আমি। আমি অহনও দেহি হাতে রাইফেল, বুকে আগুন। আইতাছে, আইতাছে বিচ্ছুর বাচ্চারা। দালালের দল সাবধান, টাউটের দল সাবধান। কুচক্রীর দল সাবধান। আমি চোখ কান মেইল্যা হুনতাছি ঠক ঠক ঠক ঠক বুটের আওয়াজ।

কোরাস:
রুখে দাঁড়াও রুখে দাঁড়াও রাখিতে সম্মান
চল সমানে সমান, বাঙালির সন্তান।…

পাগল:
আসমানের তারা, জমিনের নাড়া। নাবালকের চোখ, সখিনার মুখ, ফ্যাল ফ্যাল কইরা চাইয়া থাকে। আসমানের কান্দনে বৃষ্টির মতন ঝরে জল, রাতের বাতাস ফোঁস ফোঁস কইরা কান্দে। পোলাডা কইছিল একখান কাঠি লেবেঞ্চুসের কথা, কাঠি লেবেঞ্চুস আমার পকেটে শুকাইয়া মরে। বউয়ের চুলের ফিতা হইয়া গেছে কালা। মাইয়াডার পুতলা, বউয়ের চুলের ফিতা কাইন্দা কাইন্দা আল্লার কাছে ফরিয়াদ জানায়। পুতলা লইয়া খেলবো কে? চুলের ফিতা বান্দবো কে? কিন্তু আমি?

ফরিয়াদ আমি করি না। উপরে আসমান, নিচে জমিন। দরিয়ার চর, পশ্চিমের ঘর। হগলেরে সাক্ষী রাইখ্যা আমি কই-গজব দে গজব। ঝুম ঝুম কইরা ভাঙুক পদ্মার পাড়, শোঁ শোঁ কইরা আসুক ঝড়। কলকল ছলছল কইরা নামুক বন্যার জল। ভাইস্যা যা, চুইরা যা, কাইট্যা মাইরা যা মাতবরের ঘর, দর দর কইরা লউয়ের বানে ভাসাইয়া লইয়া যা জোর দখলের চর, দুমড়াইয়া মোচড়াইয়া ভাইঙ্গা ফেল ইটের মিনার—শহীদ মিনার।

আমজাদ:
আবে হালায়, ও! তুমি বুঝি শহীদ মিনারের কথা কইবার চাও? বাপদাদার সম্পত্তি পাইছো হালায় যে ভাঙবা-চুরবা? ট্যাহা কি গাছে ধরে না বকরির হোগা ফাইট্যা পড়ে? মাংগির পো, তোমার মুক্তিগিরি আইজকা ছুটায়া দিমু আমি।

google news , গুগল নিউজ
আমাদের গুগল নিউজে ফলো করুন

 

পাগল:
খামোশ। মার থেইক্যা বেশি মাসির দরদ, আমি কই তারে কলুর বলদ। একাত্তুরের রাজাকার, চুয়াত্তুরের বেশ্যা, আমারে হুনাইবার চায় শহীদ স্মৃতির কিস্সা। ঐ মিয়ারা, অইবো কি অই শহীদ মিনার দিয়া? গাঁও থেইক্যা আইছি শহরে, আজব সব কায়কারবার। পাড়ায় পাড়ায় মহল্লায় মহল্লায় ব্যাঙের ছাতার মতন গজাইয়া উঠছে শহীদ মিনার। শহীদ মিনার দেখছি হাটে, দেখছি মাঠে। খেপুপাড়ার তাড়িখানার মাতালরা মিনারের ওপর বইস্যা বইস্যা রসের খিস্তি ছোঁড়ে।

মিনার দেখছি ব্যাপারি পাড়ায়। রাইতের আন্ধারে হেরা ঐ মিনারের ঝোপে বইস্যা দুইন্যার আকাম কুকাম চালায়। রাইতের শহর যখন ঝিমাইয়া পড়ে, আমি তহন খ্যাপা বাউলের মতন মিনারে মিনারে ঘুইরা বেড়াই। কান পাইত্যা হুনি চাপা নিশ্বাস। কান্দে, ইটের মিনারও কান্দে। কান্দে সালাম, কান্দে জয়নুল, কান্দে সখিনা, কান্দে তপু।

হেরা কয় ভুইল্যা গ্যাছে, হগলেই ভুইল্যা গ্যাছে। হাউমাউ কইরা কাইন্দা কাইন্দা কয়, মনের মিনার যখন মইরা গ্যাছে, তখন কি অইবো ঐ শহীদ মিনার দিয়া? ঐ মিয়ারা কও, বুকে হাত রাইখ্যা কও, বাইচ্যা আছে? মনের মিনার বাইচ্যা আছে?

ঘোষক:
থাকবো না কেন? নিশ্চয় আছে। আমরা ওদের ভুলি নি। ভুলতে পারি না।

পাগল:
মিছা কথা, খাস মিছা কথা। ভুইল্যা গ্যাছ মিয়া, ভুইল্যা গ্যাছ। কইবারও পার না মনের মিনার করেই মইরা গ্যাছে। একাত্তুরের খুনি শোকসভায় বইস্যা বইস্যা প্যাচাল ছাড়ে, ভুইল্যা যাও নাই? হেরা যহন চানতারা মার্কা পতাকা উড়াইবার কথা কয়, তহন তো হগল মিয়াই মুখ বুইজ্যা থাক—ভুইল্যা যাও নাই? শহীদ গো নাম ভাঙাইয়া, চাঁদা তুইল্যা চা পানি খাও, ভুইল্যা যাও নাই?

মগর ভুলি নাই আমি। খোঁড়া পাওয়ের কাটা ঘায়ের ওপর চালাই নখ, দরদর কইরা ঝইরা পড়ে খুন। এ খুন আমার—এ খুন বিচ্ছুর বাচ্চার। মাথায় উঠছে যন্ত্রণা, বুকে বইছে ঝড়। খোঁড়া পাও দিয়া ছোটে লউয়ের দরিয়া। পদ্মায় জাগে চর। দালালের দল মর। হায়েনার দল মর। রাজাকারের দল মর। ঐ, ঐ জাগে পদ্মার বুকে চর। [ফ্রিজ]

কোরাস:
ভয় কি মরণে রাখিতে সন্তানে
মাতঙ্গী মেতেছে আজ সমর রঙ্গে…

॥ যবনিকা ॥

[ খ্যাপা পাগলার প্যাচাল [ নাটক ] এস এম সোলায়মান ]

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    মন্তব্য করুন

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।