চণ্ডীদাস চলচ্চিত্র

চণ্ডীদাস চলচ্চিত্র

চণ্ডীদাস চলচ্চিত্র নিয়ে আজকের আলোচনা। এই ছবিটি প্রযোজনা করেছিল নিউ থিয়েটার্স। পঞ্চদশ শতাব্দীর বৈষ্ণব সাধক কবি চণ্ডীদাসের কাহিনি অবলম্বনে এই ছবিটি নির্মান করেন দেবকীকুমার বসু।

 

চণ্ডীদাস চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

 

চণ্ডীদাস চলচ্চিত্র । বাংলা চলচ্চিত্রের অভিধান

  • প্রযোজনা — নিউ থিয়েটার্স।
  • কাহিনি ও পরিচালনা — দেবকীকুমার বসু।
  • সঙ্গীত – রাইটা বড়াল,
  • চিত্রগ্রহণ — নীতিন বসু।
  • শব্দগ্রহণ — মুকুল বসু।
  • সম্পাদনা— সুবোধ গঙ্গোপাধ্যায়।

অভিনয়–

দুর্গাদাস ব্যানার্জী, অমর মল্লিক, মনোরঞ্জন ভট্টাচার্য, কৃষ্ণচন্দ্র দে, উমাশশী দেবী, সুনীলা দেবী, ধীরেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, চাণী দত্ত। নেপথ্য কণ্ঠ কৃষ্ণচন্দ্র দে, দুর্গাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়।

 

 

কাহিনি—

পঞ্চদশ শতাব্দীর বৈষ্ণব সাধক কবি চণ্ডীদাসের কাহিনি অবলম্বনে এই ছবির নায়ক গ্রামের বাশুলী মন্দিরের পুরোহিত চণ্ডীদাস (দুর্গাদাস)। ধোপার মেয়ে বিধবা রানী (উমাশনী) ঐ মন্দির পরিষ্কার রাখার কাজ করত। রামী চণ্ডীদাসকে তার হৃদয়ে দেবতার আসনে বসিয়েছিল। চণ্ডীদাস ছিল রামীর প্রেমে অন্ধ।

অন্ধ গায়ক শ্রীদাম (কৃষ্ণচন্দ্র) এবং তার স্ত্রী কঙ্কণ (সুনীলা) ছিল রামীর আশ্রয়দাতা। গ্রামের জমিদার বিজয়নারায়ণ (অমর) তার অনুগত বটুকের (ধীরেন্দ্র) সহযোগিতায় রামীকে ভোগ করতে চায়। রামীর প্রত্যাখ্যান বিজয়নারায়ণ মেনে নিতে পারে নি, মন্দিরের আচার্যের (মনোরঞ্জনের) সহযোগিতায় রামীকে মন্দির থেকে বিতাড়ন করে এবং রামীর আশ্রয়দাতা শ্রীদামের বাড়িতেও আগুন লাগিয়ে দেয়।

রাতের অন্ধকারে শ্রীদাম, কঙ্কণ, রামী এবং চণ্ডীদাস গ্রাম ত্যাগ করে। চণ্ডীদাসের কাহিনি অবলম্বন করে অপরেশচন্দ্র মুখোপাধ্যায়ের লেখা নাটক ১৯২৬ সালে স্টার থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয়েছিল। সমাজে জাতিভেদ ব্যবস্থার প্রতিবাদ তৎকালীন সমাজে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। চণ্ডীদাসের কাহিনি অবলম্বনে নির্বাক যুগে ম্যাডান থিয়েটার্সের প্রযোজনায় এবং জ্যোতিষ বন্দ্যোপাধ্যায়-এর পরিচালনায় ছবি।

 

Google News চণ্ডীদাস চলচ্চিত্র
গুগল নিউজে আমাদের ফলো করুন

 

 

১৯২৭ সালে এমপ্রেস থিয়েটারে মুক্তি পায়। অপরেশচন্দ্রের লেখা কাহিনি অবলম্বনে দেবনারায়ণ গুপ্তর চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় ১৯৫৩ সালে রামী চণ্ডীদাস নামেও একটি ছবি মুক্তি পেয়েছিল। ছবিটিতে চণ্ডীদাসের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন অসিতবরণ এবং রামীর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন সন্ধ্যারাণী।

মূল ছবিটিতে রামীর ভূমিকার উমাশণীর অভিনয়ে উঁচু সুরে কণ্ঠক্ষেপ এবং জড়তা ছিল, পক্ষান্তরে চণ্ডীদাসের ভূমিকায় দুর্গাদাসের অভিনয় খুবই সংযত, আচার্যের ভূমিকায় মনোরঞ্জন ভট্টাচার্যের স্বাভাবিক অভিনয় ছবিটিকে সমৃদ্ধ করেছে। ছবিটি নিউ থিয়েটার্সের প্রথম আর্থিক ভাবে সফল ছবি। পর পর সাতটি আর্থিক ভাবে অসফল ছবির পর এই ছবিটির সাফল্য নিউ থিয়েটার্সকে একটি সুদৃঢ় আর্থিক ভিত্তির উপর দাঁড় করিয়ে দেয়।

Comments

No comments yet. Why don’t you start the discussion?

    মন্তব্য করুন

    আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।